-->

সেরা ১২টি উপায় স্মার্টফোন ফাস্ট করার [২০২০]

How-To-Speed-Up-Android

প্রথমবার যখন আপনি আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি ইউজ করেছিলেন তখন সেটা যতখানি স্মুথ কাজ করতো সময়ের সাথে সেটা আর সেরকম ফাস্ট বা দ্রুত কাজ করছে না। এর কারণ হলো ফোন যতো দামিই হোক না কেন কালের পরিক্রমায় সেটা তার বয়স দেখাতে শুরু করে।

আমরা যতক্ষণ স্মার্টফোন ব্যাবহার করি সেই সময়ে যদি একটা সুয়াইপ মিস হয়ে যায় অথবা কোনো অ্যাপ বা গেম লোড হতে  সময় লাগে তখন সেই অল্প সময়টুকুও অনন্তকাল এর মতন মনে হয়।

সৌভাগ্যক্রমে, আপনার ফোন আগের মত ফাস্ট করার কিছু উপায় আছে যেটা কিনা আপনার ফোন কে পূর্বের মত ফাস্ট এবং স্মুথ করবে। আজকের আর্টিকেলে আমরা আপনাকে দেব ১২টি টিপস যেগুলো আপনার স্মার্টফোনের দ্রুততা ফিরিয়ে আনতে শতভাগ কার্যকরি হবে।


আরো পড়ুন:

১২টি উপায় ফোন ফাস্ট করার জন্য 

বিঃদ্রঃ আজকের টিপস এন্ড ট্রিকস আর্টিকেল সম্পূর্ণ আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লেখা। এই টিপস গুলো অনুসরণ করলে আপনার ফোন আগের থেকে বেশ কিছুটা ফাস্ট মনে হবে তবে টিপসগুলো ব্যাবহার করে সবার ক্ষেত্রে সমন ফলাফল নাও আসতে পারে। সুতরাং, আপনার ডিভাইস ফাস্ট করতে চাইলে আগে ডিভাইস স্লো হওয়ার কারণ উদ্ঘটন করে টিপসগুলো ফলো করুন তাহলে আরো কার্যকরি ফলাফল পাবেন। alert-info

১. ফোনের ক্যাশড ডেটা ক্লিয়ার করুন

আপনাকে প্রথমেই যেই কাজটি করতে হবে সেটা হলো ফোনের যেসকল অ্যাপ রয়েছে সেগুলোর ক্যাশড ডেটা ক্লিয়ার করে দিতে হবে। আপনার অ্যাপগুলো প্রতিনিয়ত ছোট ছোট ডেটা, ক্যাশ করে যাচ্ছে। সাধারণত এর ফলে আপনার ফোন দ্রুত অ্যাপ লোড করার কথা তবে যদি আপনার স্টোরেজ লো হয়ে থাকে তাহলে এই ক্যাশড ডেটা আপনার ফোনের স্পীড কে বরং কমিয়ে দেবে। নিম্নে দেখানো হলো কিভাবে আপনার ফোনের ক্যাশড ডেটা ক্লিয়ার করবেন–

  • প্রথমে আপনার ফোনের সেটিংস ওপেন করুন। সেটিংস অ্যাপ ড্রয়ার এ পেয়ে যাবেন।
  • সেখান থেকে 'Apps And Notifications' এ ক্লিক করুন।
  • তারপর যেই অ্যাপগুলোর সাইজ অনেক বেশি দেখাচ্ছে সেটাতে ক্লিক করুন।
  • অতঃপর, 'Clear Cache' এ ক্লিক করুন। ব্যাস হোয়ে গেলো ক্যাশ ক্লিন করা।

উল্লেখ্য: আপনি যেইসব অ্যাপগুলোর ক্যাশ ক্লিয়ার করতে চাচ্ছেন সেগুলোই করুন। সাবধান গুগল প্লে সার্ভিসেস এবং সিস্টেম অ্যাপগুলোর ক্যাশ ক্লিয়ার করবেন না।

২. ফোনের অ্যানিমেশন ডিসেবল করুন

আপনার ফোনে যখন কোনো অ্যাপ বা গেম ওপেন করেন কিংবা হোম বাটন এ প্রেস করে হোমস্ক্রিন এ ফিরে আসেন তখন নিশ্চয়ই একটা অ্যানিমেশন দেখতে পান। আপনার ফোন যদি এখনো অস্থির কাজ করে তবে এই অ্যানিমেশন গুলোও কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে ফোন যদি যখন তখন ল্যাগ করে তাহলে এই সব অ্যানিমেশন গুলোর স্কেল কমিয়ে দেওয়া কিংবা সেগুলো সম্পূর্ণরূপে অফ করে দেওয়াই ফোনের জন্য শ্রেয় হবে।

যেভাবে করবেন:

  • আপনার ফোনের সেটিংস ওপেন করুন। অ্যাপ ড্রয়ারে আপনার ফোনের সেটিংস পেয়ে যাবেন।
  • 'About Phone' সেকশনে ক্লিক করুন।
  • সেখান থেকে 'Build Number' এ ৭ বার ট্যাপ করুন। একটা মেসেজ আসবে: 'You have Successfully Enabled Developer Options'
  • তারপর সেটিংস এ ফিরে যান এবং 'Developer Options' এ ক্লিক করুন।
  • সেখান থেকে 'Windows Animation Scale' খুঁজুন। এবং সেটার মান কম কিংবা অফ করে দিন।
  • 'Transition Animation Scale' ও 'Animation Duration Scale' এর ক্ষেত্রেও একই পরিবর্তন করুন।

এখন আপনার ফোনের স্পীড পূর্বের তুলনায় বেড়ে যাবে।

৩. ব্লোটওয়্যার এবং ফালতু অ্যাপ ডিলিট/ডিসেবল করুন

ফোন বক্স থেকে বের করার পরই আপনি নিশ্চয়ই ফোনে এমন সব অ্যাপস দেখতে পেয়েছেন যেগুলো কিনা আপনার ফোন নির্মাতা পূর্বে থেকেই ইনস্টল করে রেখেছে। আবার খুব সম্ভবত আপনি ফোন ব্যাবহার করার সময় গুগল প্লে থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করেছেন যেগুলো আপনি ব্যবহারই করেন না। এই অ্যাপগুলোর সাইজ যদি অনেক বেশি হয় তাহলে এগুলো আপনার স্টোরেজ লো করে দিবে। ফলে আপনার ফোনের স্পীড কমে যাবে। তাই এই সব ফালতু অ্যাপ ডিসেবল বা ডিলিট করুন।

যেভাবে করবেন:

  • ফোনের সেটিংস ওপেন করুন। সেটিংস ফোনের অ্যাপ ড্রয়ার খুলে পেয়ে যাবেন।
  • সেখান থেকে 'Apps' এ ক্লিক করুন।
  • যেই অ্যাপটি ডিলিট করতে চান সেটাতে ক্লিক করুন। অ্যাপগুলোর নামের নিচে অ্যাপগুলোর সাইজ লেখা থাকে।
  • তারপর 'Uninstall' এ ক্লিক করুন তারপর 'OK' তে ক্লিক করুন।
  • এইভাবে আপনি সকল ফালতু অ্যাপ ডিলিট করে দিবেন।

উল্লেখ্য: সিস্টেম অ্যাপ ডিলিট করা যাবে না সেগুলো ডিসেবল করতে হবে। একেবারেই প্রাইমারি অ্যাপ– ফোন ডায়ালার, মেসেজেস ছাড়া বাকি সব ফালতু অ্যাপ ডিসেবল করে দিন।

৪. উইজেট রিমুভ করুন বা কমান

অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহার করার একটি বড়ো সুবিধা হচ্ছে কাস্টোমাইজেশন। উইজেট ব্যাবহার করে আপনি কোনো অ্যাপ ওপেন না করেও অ্যাপটির বিশেষ ফিচার ইউজ করতে পারেন। আপনার ফোন একেবারেই নতুন হলে উইজেট আপনার কাজ আরো সহজ করে দেবে তবে আপনার ফোন যদি স্লো হয়ে যায় তাহলে আপনি সেগুলো রিমুভ করে দিন।

যেভাবে করবেন:

  • যেই উইজেট টি রিমুভ করতে ইচ্ছুক সেটি নির্বাচন করুন।
  • উইজেটটির উপর লং প্রেস করুন। উপরে দুটো অপশন দেখতে পাবেন।
  • তারপর উইজেট টি 'Remove' এর দিকে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দিন। কাজ শেষ।

৫. লেটেস্ট সফটওয়্যার আপডেট ইনস্টল করুন

প্রতিনিয়ত আপনার ফোনের সফটওয়্যার আপডেট চেক করা একটি ভালো অভ্যাস রূপে পরিণত হবে। কারণ বেশিরভাগ ফোন নির্মাতা তাদের সফটওয়্যার আপডেট এর সহিত বাগ ফিক্স এবং স্টেবিলিটি ইমপ্রুভমেন্ট নিয়ে আসে। গুগলও মাসিক সিকিউরিটি আপডেট দেওয়ার ক্ষেত্রে জোর দেয় কারণ এগুলো আপনার ফোনকে নতুন ক্ষতিকর জিনিস থেকে রক্ষা করে। যদিও আপনি সিকিউরিটি আপডেটে কোনো বড়ো স্পীড বুস্ট দেখবেন না তবে বড়ো কোনো প্ল্যাটফর্ম আপডেট কিংবা মেইনটেন্যান্স আপডেটে অনেক বেশি ফোনের স্পীড বুস্ট হয়।

তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে যে খুবই কম ফোন নির্মাতারা তাদের স্মার্টফোনে টাইমলি আপডেট প্রদান করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আপনার ফোনে খুব সম্ভত ৩ মাসে একবার একটা সিকিউরিটি প্যাঁচ আপডেট আসে। এর কারণ আপডেট গুলোর স্ট্রাকচার। তবে কিছু ইউজার আছেন যারা সফটওয়্যার আপডেট আসলেও সেটা পাত্তাই দেন না।অবশ্যই সফটওয়্যার আপডেট আসলে সেটা ইনস্টল করবেন।

যেভাবে চেক করবেন সফটওয়্যার আপডেট:

  • প্রথমে সেটিংস ওপেন করুন যেখান থেকে ইচ্ছা সেখান থেকে।
  • তারপর নিচে স্ক্রল করে 'About Phone' এ আসুন।
  • সেখান থেকে 'Software Update' এ ক্লিক করুন। কোনো আপডেট আসলে সেটা তৎক্ষণাৎ ইনস্টল করুন।

৬. অ্যাপের লাইট ওয়েট ভার্সন ইউজ করুন

আপনি যেই ফোন ব্যাবহার করছেন সেটাতে যদি মেমোরি এবং স্টোরেজ লিমিটেড থাকে তাহলে সেখানে বড়ো সড় অ্যাপ ব্যাবহার করা ফোনের স্পীড আরো কমিয়ে দেবে। এর একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো ফেসবুক অ্যাপটি। হাই-এন্ড ফোন গুলোতেও অ্যাপটি স্লাগিশ ফীল হয় তাহলে চিন্তা করুন একটা বাজেট ডিভাইসে এর কি প্রভাব পড়বে!

তবে ফেসবুক তাদের অ্যাপের লাইট ওয়েট ভার্সন বের করেছে। যেইটা বিশেষ করে অপটিমাইজ করা হয়েছে বাজেট ফোনগুলোর জন্য। প্রথম প্রথম অ্যাপটি কিছু নির্দিষ্ট মার্কেটের জন্য উন্মুক্ত ছিল তবে এটা এখন বৈশ্বিকভাবে উন্মুক্ত।

ফেসবুক লাইট অ্যাপটি বিশেষ করে বানানো হয়েছে ২জি কানেকশন থাকা এরিয়ার জন্য এবং এটা ১জিবি মেমোরি আছে সেই সব ফোনেও ভালো কাজ করে। অ্যাপটির সাইজ ৫ মেগাবাটের নিচে এবং ফেসবুক অ্যাপটির সকল  ফিচারস এতে আছে। আপনি নিউজ ফিড স্ক্রল করতে পারবেন, স্টেটাস আপডেট করতে পারবেন, বন্ধুর ছবিতে মন্তব্য করতে পারবেন, গ্রুপ জয়েন করতে পারবেন আরো অনেক কিছু।

আপনি যদি একজন রেগুলার ফেসবুক ইউজার হন এবং ফেসবুক অ্যাপটি আপনার ফোনের খারাপ অবস্থা করে রেখেছে তাহলে আপনি অবশ্যই ফেসবুক লাইট অ্যাপটিকে একবার ইউজ করবেন। তাছাড়া ফেসবুক  তাদের মেসেঞ্জার অ্যাপটিরও লাইট ভার্সন মেসেঞ্জার লাইট বের করেছে।

এইরকম ভাবে টুইটার অ্যাপটিরও লাইট ভার্সন টুইটার লাইট গুগল প্লেতে আছে। উবার নির্দিষ্ট মার্কেটগুলোতে এর অ্যাপের লাইট ভার্সন উনার লাইট বের করেছে। আপনি যদি স্কাইপ ব্যাবহার করেন তাহলে আপনি স্কাইপ লাইট ব্যাবহার করতে পারেন। কিন্তু সেটা এখন কেবল ইন্ডিয়ান মার্কেটে আছে।

গুগলও তাদের অ্যাপগুলোর লাইট ভার্সন তৈরি করেছে। যেমন ইউটিউব অ্যাপটির লাইট ভার্সন ইউটিউব গো এবং ম্যাপস অ্যাপটির লাইট ভার্সন ম্যাপস গো আছে গুগল প্লেতে। আপনি যদি একটা বাজেট ফোন ইউজ করেন তাহলে আপনি অ্যান্ড্রয়েড গো ভিত্তিক অ্যাপগুলো ইউজ করুন।

৭. হোমস্ক্রিন পরিষ্কার রাখুন

আপনার হোমস্ক্রিন যদি অনেক বেশি অ্যাপ ও উইজেট দিয়ে ভরা থাকে তাহলে আপনি ফোন ইউজ করার সময় ল্যাগ দেখতে পাবেন। তাছাড়া আপনার ফোনের ওয়াল পেপার হিসেবে লাইভ  ওয়াল পেপার ব্যাবহার করা থেকে বিরত থাকুন। বিশেষ করে যদি আপনি একটা বাজেট ফোন ব্যাবহার করেন।

আপনার যদি লাইটওয়েট লাইভ ওয়াল পেপার এর দরকার হয় তাহলে গুগল ওয়ালপেপার এর কথা ভাবতে পারেন।

৮. অন্য কোনো লঞ্চার ব্যাবহার করুন

আপনার ফোন যদি আপনার নিকট ল্যাগি ফীল হয় তাহলে আপনি আপনার ফোনের ডিফল্ট লঞ্চার ছেড়ে অন্য কোনো এক ভালো লঞ্চার ব্যাবহার করতে পারেন। এতে আপনার ফোনের ইউজার ইন্টারফেস পরিবর্তন হবে বিধায় আপনার ফোন পূর্বের তুলনায় ফাস্ট মনে হবে।

ওয়ানপ্লাস তাদের অ্যান্ড্রয়েড স্কিন একেবারেই স্টক অ্যান্ড্রয়েড এর সাথে মিল রাখে এবং সেই সাথে কিছু দরকারি ফিচার অ্যাড করে বলে তাদের ফোন অনেক ফাস্ট হয়। স্যামসাং তাদের ওয়ান ইউআই ২.০ তে পিওর অ্যান্ড্রয়েড এর মত ফীল দিতে পেরেছে। তবে চাইনিজ ব্র্যান্ড– শাওমি, হুয়াওয়ে, অপো ও ভিভো এখনও অনেক হেভীথিম ব্যাবহার করে তাদের ফোনে।

আপনি যদি EMUI বা MIUI স্কিন ইউজ করেন তবে আপনি একটা আলাদা লঞ্চার ব্যাবহার করুন এতে আপনার ফোনের স্পীড বাড়বে। নোভা লঞ্চার, অ্যাকশন লঞ্চার ও পিক্সেল লঞ্চার এর মতন অ্যাপগুলো নিমিষেই আপনার ফোনের স্পিডে বড়ো প্রভাব ফেলতে পারে। 

তাই আপনি অবশ্যই একটা থার্ড-পার্টি লঞ্চার ব্যাবহার করবেন।

৯. ফোনের ব্যাটারি অপটিমাইজ করুন

আপনি যদি খেয়াল করেন যে আপনার ব্যাটারি পূর্বের তুলনায় অনেক দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে তবে এর কারণ হতে পারে একটা অসভ্য অ্যাপ যেটা আপনার সিপিইউ এর অবস্থা কাহিল করে দিচ্ছে। যেই অ্যাপগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে চলে সেগুলোও ব্যাটারি লাইফে প্রভাব ফেলতে পারে। সুতরাং, আপনার উচিত প্রতিনিয়ত আপনার ফোনের ব্যাটারি ইউসেজ মনিটর করা।

যেভাবে করবেন:

  • সেটিংস ওপেন করুন যেথা ইচ্ছা সেথা হতে।
  • এরপর ব্যাটারি তে ক্লিক করুন এবং সেই অসভ্য অ্যাপটিকে খুঁজুন।
  • বাজে অ্যাপটিকে ফোর্স স্টপ করে দিন।

যেই সব ডিভাইসগুলোর অ্যান্ড্রয়েড ৯ এবং এর উপরের ভার্সনে চলছে সেগুলোতে এই কাজটা 'Adaptive Battery Saving' মোড দ্বারা সয়ংক্রিয় ভাবে করা হয় তবে আপনি যদি এর নিচের ভার্সনে থাকেন তাহলে আপনি ম্যানুয়ালি। এই কাজ টা করবেন।

১০. ক্রোম ব্রাউজার অপটিমাইজ করুন

অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যাবহার কারীদের মধ্যে ৯০ শতাংশ মানুষই গুগল ক্রোম কে তাদের প্রাইমারি ব্রাউজার হিসেবে ইউজ করেন। এই ট্রিকটি কাজে লাগিয়ে আপনি আপনার মোবাইল ব্রাউজিং স্পিড বাড়াতে পারবেন। আর বোনাস হিসেবে যদি আপনি কম ডেটা খরচ করতে চান তাহলেও এটি আপনাকে সাহায্য করবে।

ডাটা সেভার মোড নামে একটা ফিচার আছে গুগল ক্রোমে। এখানে আপনি যেই সাইট ওপেন করুন না কেন সেটা গুগল প্রায় ৩০ শতাংশ কম্প্রেস করে এবং ৫০ শতাংশ ভিডিওর ক্ষেত্রে। মনে বেশি ব্রাউজিং এর ফাস্ট স্পিড।

যেভাবে করবেন:

  • ক্রোম ব্রাউজার ওপেন করুন অ্যাপ ড্রয়ার থেকে।
  • উপরের ডান কর্নারে একটা থ্রি ডট মেনু দেখতে পাবেন সেটা তে ক্লিক করুন।
  • সেটিংস এ ক্লিক করুন।
  • ডেটা সেভার এ ক্লিক করুন।
  • উপরের ডান দিকে সুইচটি অন করে দিন।

এখন যেকোনো ওয়েব পেজ দ্রুত ওপেন হবে এবং ডেটা সেভ হবে।

১১. গুগল ফাইলস গো ব্যাবহার করুন

Google-Files-Go

গুগল এর ফাইল ম্যানেজার অ্যাপটি এক কথায় অসাধারণ। এটি শুধু আপনার ফোন এর অব্যবহৃত অ্যাপ এবং ফাইল স্ক্যান করে না তার পাশাপশি আপনাকে আপনার ফাইল ট্রান্সফার করার সবিধাও দেবে। অ্যাপটির ডিজাইন মিনিমালিস্টিক এবং এতে পাবেন দুটি ট্যাব: স্টোরেজ এবং ফাইলস। স্টোরেজ সেকশনে আপনি দেখতে পাবেন আপনার ফোনে কতখানি স্টোরেজ আছে এবং কিভাবে আপনি স্টোরেজ ফ্রি করতে পারবেন। তাছাড়া আপনি অ্যাপের ক্যাশড ডেটাও ক্লিয়ার করতে পারবেন ফাইলস সেকশনে থেকে।

এটি বিশেষ করে কাজে দিবে যখন আপনি আপনার ফোন থেকে অপ্রয়োজনীয় ফাইল ডিলেট করতে চান কিংবা আপনার বন্ধুদের সাথে কোনো ফাইল শেয়ার করতে চান। এটি মূলত লিনোভো এর শেয়ার ইট এর মত ফাইল শেয়ার করে কিন্তু কোনো বিজ্ঞাপন নেই আরো অনেক সিম্পল। এটা শেয়ার ইট থেকে অনেক ভালো।

ডাউনলোড/download/button

১২. কাস্টম রম ইন্সটল করুন

যদি এতগুলো টিপস কাজে লাগিয়ে আপনার ফোনের স্পীড এর কোনো উন্নতি হয় নি তাহলে আপনি শেষ যেই কাজটা করতে পারেন সেটা হলো একটা কাস্টম রম ইন্সটল করা। কাস্টম ইনস্টল করার জন্য আপনাকে ফোন রুট করতে হবে এবং তার সাথে বুটলোডার আনলক এবং একটা কাস্টম রিকভারি ইনস্টল করতে হবে।

আপনার যদি আপনার ফোনের বর্তমানে ওএস ভালো না লাগে কিংবা অনেক বেশি ল্যাগি মনে হয় তাহলে আপনি একটা কাস্টম রম অবশ্যই ইনস্টল করবেন। কাস্টম রম গুলো সর্বদা আপনার ফোনের স্পিড পূর্বের তুলনায় বাড়িয়ে দেবে এবং আপনাকে নতুন অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন এর স্বাদ দিবে।

তাছাড়া কাস্টম রম ব্যাবহার করে আপনি একটা স্টক অ্যান্ড্রয়েড এর ফীল পেতে পারেন এবং এর পাশাপশি আপনার গেমিং পারফরম্যান্স আরো ভালো হবে। ব্যাটারি লাইফও বেড়ে যাবে।

তাই আপনি দরকার হলে একটা ভালো কাস্টম রকম ব্যাবহার করুন।

মতামত

কেউ চায়না প্রিয় ফোনটি স্লো হয়ে যাক কিংবা ল্যাগ করুক। তাই ফোনের স্পিড বাড়িয়ে তোলা ফোন দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাবহারের জন অতীব গুরুত্বপূর্ণ। উপরিউক্ত টিপসগুলো আপনার ফোনের স্পীড আগের তুলনায় অনেকখানি বাড়িয়ে তুলবে বলে আশা করছি আমি।

এতবড়ো আর্টিকেল কারো পড়তে ইচ্ছে করে না তাই যদি ভালো লাগে তাহলে শেয়ার করবেন এবং আপনার ফোনের স্পীড কি আগের তুলনায় ভালো হলো কমেন্ট করে জানান। আল্লাহ হাফেজ। আসসালমুয়ালাইকুম।

Post a Comment

আমরা স্প্যাম ঘৃণা করি!

অপেক্ষাকৃত নতুন পুরনো