-->

সেরা ৫ অ্যান্ড্রয়েড গ্যালারি অ্যাপ [২০২০]

Best-Android-Gallery-Apps
যারা স্মার্টফোনে ব্যাবহার করেন তারা প্রত্যেকেই নিজস্ব ছবি দেখার জন্য কোনো না কোনো গ্যালারি অ্যাপ ব্যাবহার করে থাকেন। স্যামসাং, এলজি, অ্যাপেল কোম্পানিগুলো আগে থেকেই তাদের স্মার্টফোনে একটি ভালো এবং ইউজার ফ্রেন্ডলী গ্যালারি অ্যাপ প্রদান করে থাকে।

কিন্তু বেশিরভাগ কোম্পানিগুলো তাদের ফোনে যে সব গ্যালারি অ্যাপ প্রি-ইনস্টলড করে রাখে, সেগুলোর যাচ্ছে-তাই অবস্থা হয়। আপনার পছন্দের ছবি খুঁজতে এত সময় নেয় যে আপনার মাথা খারাপ হয়ে যায় আর আপনি ছবিটিও খুঁজে পান না।

আপনি এক বা দের বছর আগের ছবি দেখতে চাচ্ছেন। এক্ষেত্রে আপনার গ্যালারি অ্যাপটি যদি নেভিগেট করতে অক্ষম হয় তাহলে আপনি পাগল হয়ে যাবেন শত শত ছবি থেকে নিজের পছন্দের ছবিটি খুঁজতে গিয়ে।

তাই আপনার একটা ওয়েল ডিজাইনড গ্যালারি অ্যাপ থাকা জরুরি, যার শুধু ইউজার-ফ্রেন্ডলি ইন্টারফেসই থাকবে না তার পাশাপাশি এটা একটা ফটো স্টোর করার জায়গা থেকে বড়ো কিছু প্রমাণিত হবে।

আজকের আর্টিকেলে আমরা সংকলন করেছি সেরা ৫টি ফ্রি গ্যালারি অ্যাপ অ্যান্ড্রয়েড এর জন্য। এই অ্যাপগুলো আপনার ছবি যে শুধু স্টোর করবে সেটা নয় আপনার ছবিগুলো অর্গানাইজ থেকে শুরু করে মুখ অনুসারে ছবির গ্রুপিংও করবে। তো চলুন শুরু করা যাক।


আরো পড়ুন:

সেরা ৫টি অ্যান্ড্রয়েড গ্যালারি অ্যাপ [২০২০]

বিঃদ্রঃ আজকের সেরা অ্যান্ড্রয়েড গ্যালারি অ্যাপ আর্টিকেলে উল্লেখিত প্রত্যেকটি গ্যালারি অ্যাপ আপনি গুগল প্লেতে পেয়ে যাবেন। অ্যাপগুলো সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং আপনার ডাটা চালান করে দিবে না। BDTechTimes কোনো প্রকার স্প্যাম, ফেক বা ক্ষতিকারক অ্যাপ এর প্রমোশন করে না। alert-info

1. Google Photos

Google+Photos

আজকের ফটো গ্যালারী অ্যাপ এর লিস্টের প্রথম অ্যাপটি হচ্ছে Google Photos। আমি জানি আপনারা সবাই অ্যাপটির সাথে পরিচিত। অনেকে এই অ্যাপটি নিজের ডিফল্ট গ্যালারি অ্যাপ হিসেবেও ব্যাবহার করছেন। কিন্তু আজকের লিস্টে এই অ্যাপটি রাখার কারণ হচ্ছে এর ক্লাউড ভিত্তিক স্টোরেজ এবং এর অস্থির সব ফিচারস যেগুলো আপনার ছবিকে প্রাণবন্ত করে তুলে।

প্রায় প্রত্যেকটি গ্যালারি অ্যাপ ফটো বা ছবি গুলো স্টোর করে সিস্টেম স্টোরেজে। এর ফলে আপনার ফোনের স্টোরেজ ধীরে ধীরে কমতে থাকে এবং আপনার পছন্দের গেম বা অ্যাপ আপনি ডাউনলোড করতে পারেন না। তবে এই গ্যালারিটিতে স্টোরেজ সমস্যার জন্য একটা সমাধান আছে, যেটা হলো ক্লাউড স্টোরেজ।

গুগল ফোনের ছবিগুলো সয়ংক্রিয়ভাবে গুগল ক্লাউডে আপলোড করে দেয় যখন আপনি এই Google Photos অ্যাপটি ব্যাবহার করেন। এক্ষেত্রে আপনার কাছে থাকে দুটো অপশন থাকে– ১. আপনি ছবির হালকা কোয়ালিটি-লস নিয়ে পরোয়া না করলে সারা জীবনের জন্য আনলিমিটেড স্টোরেজে আপলোড করতে পারেন এবং ২. আপনি ছবিগুলি অরিজিনাল কোয়ালিটিতে আপলোড করতে পারেন। 

তবে অরিজিনাল কোয়ালিটিতে আপলোড করলে আপনি লিমিটেড স্টোরেজ পাবেন। এক্ষেত্রে ১৫ জিবি স্টোরেজ আপনি ফ্রী পাবেন ব্যাবহার করার জন্য। এই লিমিট একবার অতিক্রম করার পর আপনাকে টাকা ব্যয় করে স্টোরেজ স্পেস কিনতে হবে। তবে স্টোরেজ নিয়ে চিন্তা করার প্রয়োজন হবে না কারণ আপনার ছবি এমনিতেই হাই কোয়ালিটিতে ব্যাকআপ হয়ে যাবে।

Google Photos এর আরেকটি অস্থির ফিচার হচ্ছে এতে আপলোড করা ছবি বা ভিডিও আপনি শুধু মোবাইল থেকে নয় যেকোনো প্ল্যাটফর্ম যাতে ইন্টারনেট সংযোগ আছে সেখান থেকে আপনার ছবিগুলো দেখতে পারবেন। তাছাড়া Google Photos আপনাকে শেয়ারড অ্যালবাম, অটোমেটিক ক্রিয়েশন ইত্যাদি বানিয়ে দেবে। আবার এতে একটি ইন-বিল্ট ফটো এবং ভিডিও এডিটরও আছে।

অটোমেটিক ক্রিয়েশন আপনার পছন্দের জিনিসগুলোর একটা যেটা আপনাকে আপনার ছবি বা ভিডিও গুলো দিয়ে জিআইএফ, অ্যানিমেশন, কোলাজ এবং মুভি বানিয়ে দিবে। এছাড়া আপনাকে পুরনো ছবি দেখাবে প্রতিদিনের তারিখ অনুযায়ী। সত্যি বলতে, এটা অ্যান্ড্রয়েড এর জন্য একটা অসাধারন গ্যালারি অ্যাপ যেটা আপনার অবশ্যই ব্যাবহার করা উচিত।

ফিচারস:

  • ক্লাউড স্টোরেজ ব্যাবহার করে এবং আজীবন ফটো ও ভিডিও আপলোড করতে পারবেন।
  • সিম্পল এবং মেটেরিয়াল ডিজাইন।
  • ছবি ও ভিডিও থেকে অটোমেটিক জি আই এফ, অ্যানিমেশন, কোলাজ ও মুভি বানাতে পারে।
  • ছবির ধরন অনুসারে ছবি গ্রুপ করে এবং এডিট সাজেস্ট করে।
  • বিল্ট ইন ভিডিও এবং ইমেজ এডিটর আছে। এমনকি ভিডিও স্ট্যাবলাইজও করতে পারে।

2. Amazon Photos

Amazon+Photos

আপনার যদি ক্লাউড ভিত্তিক স্টোরেজ ভালো লাগে এবং আপনি একটি ভালো গ্যালারি অ্যাপ খুঁজছেন তাহলে আপনি Amazon Photos এর কথা বিবেচনা করতে পারেন। Google Photos এর মতন Amazon Photos আপনার ছবি এবং ভিডিওগ অটো সেভ করতে পারে যাতে সেগুলো ব্যাকআপ হয়ে যায়। একবার যখন আপনার ছবিগুলো Amazon Photos এ স্টোর হয়ে যাবে তখন আপনি সেই ছবিগুলো ফোন থেকে ডিলিট করে ফেলতে পারেন। এতে আপনার স্টোরেজ বাড়বে। 

Amazon Photos একটি ফ্রি ফটো স্টোরেজ অ্যাপ যেটা আপনাকে সাহায্য করবে আপনার ছবি এবং ভিডিওগুলো সুরক্ষিত রাখতে; তবে এটা সবচেয়ে ভালো তাদের জন্য যাদের আগে থেকেই অ্যামাজন প্রাইম মেম্বারশিপ রয়েছে।

অ্যামাজন প্রাইম মেম্বাররা ফ্রি আনলিমিটেড ফটো স্টোরেজ পাবেন এবং ৫ জিবি ফ্রি ভিডিও স্টোরেজ পাবেন। যদি আপনার অ্যামাজন প্রাইম মেম্বারশিপ না থাকে তাহলে আপনার সেটা অত্যাবশ্যক। প্রাইম মেম্বারশিপ থাকার একটা সুবিধা হলো আপনার আনলিমিটেড ফটো স্টোরেজ আপনি ৫ জনের সাথে শেয়ার করতে পারবেন তাদেরকে ফ্যামিলি ভল্টে অ্যাড করে।

অ্যাপটিতে থাকা আমার একটি ফেভারিট ফিচার হচ্ছে মেমোরিজ সেকশন। এখানে আপনার ৬ মাস, ১ বছর, ২ বছর যতো আগের ছবিই থাকুক না কেনো সেটা দেখাবে। এতে আপনার স্মৃতিগুলো ফিরে আসবে। তাছাড়া অ্যাপটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আপনাকে কী ওয়ার্ড অনুসারে ছবি দেখাবে। আপনি Cat কিংবা Tree লিখলেন তাহলে অ্যাপটি আপনাকে সেই কি ওয়ার্ড এর ছবিগুলো দেখাবে।

ফিচারস:

  • প্রাইম মেম্বারশিপ নিলে থাকবে আনলিমিটেড ফটো স্টোরেজ।
  • ক্লাউড ভিত্তিক স্টোরেজ সাপোর্ট করে বলে আপনার স্টোরেজ বাঁচবে।
  • পুরনো ছবিগুলো মেমোরিজ সেকশনে দেখাবে।
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থাকায় ছবির প্রকৃতি অনুসারে ছবি গ্রুপ করে। এবং কিওয়ার্ড অনুসারে ছবি দেখায়।

3. Piktures

Piktures

লিস্টের তৃতীয় সেরা অ্যান্ড্রয়েড গ্যালারি অ্যাপ হলো Piktures। সাধারণভাবে বললে এটি একটি ফটো গ্যালারী অ্যাপ এবং তার পাশাপাশি এতে থাকছে একটি বিল্ট ইন ইমেজ এডিটর এবং ক্লাউড ইন্টিগ্রেশনের সুবিধা। আপনার অ্যাপটির সবচেয়ে ফেভারিট ফিচার হচ্ছে এর ডিজাইন। অনেক সুন্দরভাবে অ্যাপটি বানানো হয়েছে। আপনার ছবিগুলো দেখা অনেক সহজ এবং Piktures সব ছবি এমন ভাবে রাখে যাতে নির্দিষ্ট কোনো ছবি খুঁজতে কষ্ট না হয় আপনার।

এছাড়া Piktures একটা জেসচার ভিত্তিক ফাংশন সাপোর্ট করে যেটা আপনার ছবিগুলো খুঁজতে আরো বেশি সাহায্য করে। তারপর এতে আপনি আছে সিকিউর ড্রাইভ যেটা কিনা আপনাক নির্দিষ্ট ছবি কিংবা অ্যালবামে পাসওয়ার্ড লাগাতে দেবে। Piktures সিস্টেম স্টোরেজে ব্যাবহার করে তবে আপনি এতে আপনার পছন্দের ক্লাউড সার্ভিসের ব্যাবহার করে ছবি ব্যাকআপ করতে পারেন। কিন্তু এইভাবে আপনি ফ্রিতে ক্লাউড স্টোরেজে পাবেন না। তাই ক্লাউড সার্ভিসে ইউজ করার পূর্বে সেখানে যাতে যথেষ্ট স্পেস থাকে সেটা দেখে নিবেন।

ফিচারস:

  • অ্যাপটির ইন্টারফেস অনেক সুন্দর এবং সিম্পল।
  • অ্যাপটিতে থাকবে বিল্ট ইন ইমেজ এডিটর যেটা আপনি ইমেজ এডিটিং করতে ব্যাবহার করতে পারেন।
  • ছবিগুলো ভালো ভাবে অর্গানাইজ করে যাতে আপনি সহজেই প্রয়োজনের ছবি পেতে পারেন।
  • ছবি ও অ্যালবাম সুরক্ষিত করার জন্য আছে সিকিউর ড্রাইভ। 

4. SlideBox

SlideBox

আমাদের পরবর্তী গ্যালারি অ্যাপটি হলো SlideBox। এই অ্যাপটি আপনার ছবিগুলো অর্গানাইজ করে জেসচার ব্যাবহার করে। আপনি ফুল স্ক্রিনে আপনার ছবিগুলো স্ক্রোল করতে পারবেন এবং সুয়াইপ আপ করে কোনো ছবি ডিলিট বা কোনো নির্দিষ্ট অ্যালবামে যুক্ত করতে পারবেন। তবে তারা জেসচার ভিত্তিক সুয়াইপিং এক ধাপ আগে নিয়ে গিয়েছে সেখানে আপনি একই প্রকার বা ডুপ্লিকেট ফটো বেছে সেগুলো এক সুয়াইপে ডিলিট করতে পারবেন।

SlideBox বলছে সকল ছবি এবং অ্যালবাম যেটা এটা অর্গানাইজ করে সেটা সরাসরি ফোনের ডিফল্ট গ্যালারি সিস্টেমে অর্গানাইজ হয়ে যায়। তাই যেসব অ্যালবাম নিয়ে আপনি যা ইচ্ছে তাই অবস্থা করেন এবং পরে সেগুলো SlideBox দিয়ে সর্ট করেন সেগুলো ভালো ভাবে আপনার পূর্বতন অ্যাপ বা সার্ভিসেও সর্ট হবে।

তবে জেনে রাখা ভালো যে SlideBox আপনার ছবি বা অ্যালবাম ডুপ্লিকেট বা কপি করে না। তাই যদি আপনি আপনার ডিফল্ট গ্যালারি অ্যাপ থেকে একটা ছবি ডিলিট করেন তাহলে সেটা SlideBox থেকেও ডিলিট হয়ে যাবে। আবার এর উল্টোটাও সত্যি– আপনি যখন SlideBox থেকে কোনো ছবি মুছে ফেলবেন সেটা আপনার স্টক গ্যালারি থেকেও মুছে যাবে।

ফিচারস: 

  • জেসচার ভিত্তিক ছবি অর্গানাইজেশন এর সুবিধা আছে।
  • সুয়াইপ করে কোনো ছবি ডিলিট করতে পারবেন বা অ্যালবামে যুক্ত করতে পারবেন।
  • এতে অর্গানাইজ করা ছবি ও অ্যালবাম ডিফল্ট গ্যালারি অ্যাপেও অর্গানাইজ হয়।
  • গুগল প্লে থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ডাউনলোড করতে পারবেন।

5. Gallery Go

Gallery+Go

আমাদের লিস্টের সর্বশেষ গ্যালারি অ্যাপটি হলো গুগলের Gallery Go। এর সাথে গুগলের Google Photos এর অনেক মিল আছে। যেখানে Google Photos কাজ করতে প্রচুর ইন্টারনেট ব্যাবহার করে সেখানে Gallery Go এমন একটি অ্যাপ যেটা অফলাইন আপনার ছবিগুলো ম্যানেজ করে। এটি মূলত লো এন্ড ডিভাইসগুলোর জন্য শ্রেয়। অফলাইনের কাজ করে বলে এটি কোনো প্রকার ডাটা না ব্যাবহার করে আপনার ছবিগুলো অর্গানাইজ করতে পারে।

Gallery Go তাদের জন্য অনেক উপকারী হবে যারা নাকি ডাটা প্ল্যানে লো। অর্থাৎ আপনার যদি নেট কম থাকে তাহলে আপনি  অ্যাপটি ব্যাবহার করে আপনার ছবিগুলো অতি সহজে দেখতে পারেন।

যদিও এটি একটা ছোট সাইজের গ্যালারি অ্যাপ এর সাথে Google Photos এর অনেক মিল আছে। যেমন: Gallery Go আপনার ছবিগুলো গ্রুপ অনুসারে ভাগ করে এবং সেই অনুসারে আপনাকে ছবি গুলো দেখায়। সাধারণত এটা ছবি সর্ট করে পিপল, অ্যানিমাল, নেচার, সেলফি, ভিডিও এবং মুভি অনুসারে। ফলস্বরূপ আপনার ছবি খুঁজা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

ফিচারস:

  • অ্যাপটি লাইট ওয়েট এবং একটা লো এন্ড ডিভাইসে অনেক ভালো চলবে।
  • তুলনামূলক কম ডাটা ব্যাবহার করে বলে আপনার ডাটা বেঁচে যাবে।
  • ডাটা না থাকলে অ্যাপটি অফলাইনেও কাজ করে।
  • ছবির ধরন অনুসারে ছবি গ্রুপ করে এবং সহজেই ছবি খুঁজতে পারে।

মতামত

আজকের সেরা গ্যালারি অ্যাপগুলোর মধ্যে চোখ বন্ধ করে আমার প্রিয় ফটো গ্যালারি অ্যাপ হলো Google Photos। কারণ এতে আপনি আনলিমিটেড স্টোরেজ পাবেন এবং আপনার ছবি, ভিডিও গ্রুপ অনুসারে অর্গানাইজ হয়ে যাবে। তাছাড়া এতসব অস্থির ফিচার আপনি পাবেন কেবল মাত্র একটি গুগল একাউন্ট ব্যাবহার করে।

আপনি আপনার ফোনে কোন গ্যালারি অ্যাপটি ব্যাবহার করেন ? আপনার কি কোন ফেভারিট গ্যালারি অ্যাপ আছে ? আমাদের গ্যালারি অ্যাপগুলো আপনার ফেভারিট লিস্টে জায়গা করতে পেরেছে ? অবশ্যই আমাদের কম্মনেতে জানাবেন। এবং আমাদের আর্টিকেলটা আপনার পরিবার এবং বন্ধুদের কাছে পাঠিয়ে দিন। সবার সুস্থতা কামনা করি। আল্লাহ হাফেজ।

Post a Comment

আমরা স্প্যাম ঘৃণা করি!

অপেক্ষাকৃত নতুন পুরনো