-->

সেরা ১০ অ্যান্ড্রয়েড ভিডিও এডিটিং অ্যাপ [২০২০]

Best+Android+Video+Editors

ভিডিও এডিটিং যেকোনো ডিভাইস হোক তা কম্পিউটার বা স্মার্টফোন এর জন্য সবচেয়ে গুরুতম কাজ সমূহের একটি। কম্পিউটারের মধ্যে ভিডিও এডিটিং করতে হলেই প্রয়োজন মোটামুটি ১৬ জিবি এর মতই মেমোরি,ভালো কোনো প্রসেসর, প্রচুর স্টোরেজ স্পেস।

কোনো ফোনের অভ্যন্তরে এত শক্তশালী স্পেসিফিকেশন থাকে না যা ডেস্কটপ এর মত ফাইনাল কাট প্রো কিংবা অ্যাডোব প্রিমিয়ারের মত কাজ করতে পারবে। তারপরও কিছু অ্যাপ রয়েছে যাদের দ্বারা সাধারণ এডিটিং অনায়াসে করা সম্ভব।

এমনকি এইসব অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে প্রোদের এডিটিং করাও সম্ভব কিছু ধৈর্য ধারণ করে করলে। এই হলো লিস্ট অ্যান্ড্রয়েডের বেস্ট ভিডিও এডিটিং অ্যাপস এর। অন্তত, অ্যাডবে প্রিমিয়ার রাস অ্যান্ড্রয়েডের জন্য লঞ্চ হওয়া অবদি।

1. Action Director 

Action+Director

পিসিতে অ্যাকশন ডিরেক্টর বহুল জনপ্রিয় ভিডিও এডিটিং অ্যাপসগুলোর একটি। অ্যান্ড্রয়েডের এরও এটি জনপ্রিয় ভিডিও এডিটিং অ্যাপগুলোর একটি। এটা সাধারণ এডিটিং এর কাজগুলো সহজে করতে পারে।

আপনি ভিডিও ক্লিপস ইমপোর্ট করতে পারবেন, তারপর সম্পাদনা করতে পারবেন এবং ভিডিও রেন্ডার করতে পারবেন। আপনি চাইলে ভিডিওতে নিজের মিউজিক বা গানও লাগাতে পারবেন, ভিডিও কেটে ছোট বড় বা ট্রিম অথবা কাট করা, ভিডিও এর গতি ধীর করা বা স্লোউমোশনে নেয়া। এছাড়াও আরো অনেক কিছু করতে পারবেন।

এই অ্যাপ আপনাকে আপনার এডিট করা ভিডিও 4K রেজ্যুলেশন এ রেন্ডার করার সুবিধাও দেবে। শুধু সীমাবদ্ধতা হলো আপনার নিজের ডিভাইস 4K রেন্ডারিং সাপোর্ট করে কিনা সেটা দেখে নিতে হবে। এই অ্যাপটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর আপডেট পেয়ে থাকে।

2. Adobe Premier Rush

অ্যাডোব প্রিমিয়ার রাস এবং অ্যাডোব প্রিমিয়ার ক্লিপ অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস এর জন্য দুইটি অসাধারণ ভিডিও এডিটিং অ্যাপ। অ্যাডোব প্রিমিয়ার ক্লিপ তুলনামূলক সহজ এবং একটি সাদাসিধা ভিডিও এডিটিং অ্যাপ। অ্যাডোব প্রিমিয়ার রাস নতুন সব এডিটিং ফিচারস নিয়ে আসে যা প্রিমিয়ার ক্লিপ এর তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর।

সম্প্রতি মার্কেটে আসা ভিডিও এডিটিং অ্যাপ্সগুলোরমধ্যে অ্যাডোব প্রিমিয়ার রাস একটি। এর মধ্যে বহুবিধ প্রফেসনাল লেভেল এর এডিটিং টুল রয়েছে। যেমন - মাল্টি ট্র্যাক টাইমলাইনস, ক্লাউড সিনকিং, নতুন সব টেক্সট অ্যানিমেশন এবং লোয়ার থার্ডস, কালার অ্যাডজাস্টমেন্টসহ আরো অনেক আকর্ষণীয় ফিচারস।

তারপরও অ্যাপটির ইউজার ইন্টারফেস বা ইউআই নিয়ে ডেভেলপারদের পরিবর্তন আনতে হবে এবং কিছু বাঘবালুক ফিক্স করতে হবে। ভালো খবর হচ্ছে অ্যাডোব ক্রিয়েটিভ ক্লাউড সাবস্ক্রিপশনের মধ্যে প্রিমিয়ার রাস রয়েছে। 

তাই যদি আপনার সাবস্ক্রিপশন থেকে থাকে ক্রিয়েটিভ ক্লাউড এর তাহলে এই অ্যাপটি অন্তত একবার তো ইউজ করে দেখা দরকার আপনার। এমন না যে, সাবস্ক্রিপশন না থাকলে ইউজ করতে পারবেন না। সেটাও পারবেন।

3. Fimora Go

Filmora+Go

যারা ওয়ান্ডারশেয়ার কোম্পানি এর সাথে পরিচিত তারা জেনে থাকবেন ফিল্মরা গো হচ্ছে তাদের ভিডিও এডিটিং অ্যাপ্লিকেশন অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস এর জন্য। চোখ বন্ধ করে বলা যায় এটি সেরা ভিডিও এডিটর গুলোর একটি। অ্যাপটিতে অনেক ফিচারস ঠাসা। 

আপনি বেসিক জিনিস যেমন ভিডিও ট্রিম, কাট, রেন্ডার এবং এই জাতীয় জিনিস অনায়াসে সম্পন্ন করতে পারবেন। ভিডিও রিভার্স করার সুবিধাও এই অ্যাপটি আপনাকে দিবে। ইনস্টাগ্রাম এর ভিডিও ফরমেট (১:১) বা স্কয়ারে ভিডিও এডিট এবং ইউটিউব এর জন্য বিশেষ করে (১৬:৯) ফরমেট এও ভিডিও এডিট করতে পারবেন।

এইটার মধ্যে স্লো মোশন বা ভিডিও ধীর গতি করার সুবিধা, ট্রানজিশন অ্যাড, মিউজিক বা গান লাগানো, স্টিকার অ্যাড করাসহ আরো অনেক বিবিধ ফিচারস রয়েছে। এইটা অনেক বেশি কিছু দিচ্ছে অল্পতেই। অ্যাপ এর অভ্যন্তরে আপনি আরো বেশি কার্যকর  ফিচারস ডাউনলোড করতে পারবেন। বস্তুত, বেশির ভাগ ফিচারস আপনি বিনামূল্যে উপভোগ করতে পারবেন।

4. Inshot

Inshot

ইনশট অ্যাপটি খুব সম্ভবত তৈরি করা হয়েছে ইনস্টাগ্রাম এর ভিডিও এডিটিং করার জন্য। কিন্তু এই অ্যাপটি দিয়ে যেকোনো সাইটের জন্য ভিডিও এডিটিং করা যাবে। এইটা অনেক বেশি সিম্পল একটা অ্যাপ এবং সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করে ফিল্টারস, ভিডিও ট্রিমিং এবং ছোট ভিডিও তৈরি করার উপর।

অ্যাপটির টাইমলাইন অনেক সাধাসিধা এবং আপনি একসাথে দুই এর অধিক এবং অডিও এর এডিটিং করতে পারবেন এক সাথে। এছাড়াও, বেসিক জিনিস যেমন - ভিডিও ক্রপ করা, মিউজিক এর সিলেকশন, ভিডিও ফেড ইন এবং আউট করাসহ আরো অনেক কিছু করতে পারবেন। 

আপনি যদি টিকটক, ইউটিউব বা ইনস্টাগ্রাম এর জন্য ভিডিও বানিয়ে থাকেন তবে এই অ্যাপের স্টিকার প্যাক, স্পিড কন্ট্রোল, টেক্সট অ্যানিমেশন আপনাকে অনেক বেশি সাহায্য করবে এবং আপনার ভিডিও টিকে অনেক বেশি আকর্ষণীয় বানিয়ে তুলবে ।

5. KineMaster

KineMaster

কাইন মাস্টার এক কথায় বলতে গেলে স্মার্টফোন এর জন্য অ্যাডোব প্রিমিয়ার প্রো কিংবা ফাইনাল কাট প্রো এর মত। এই লিস্টের অন্য সব অ্যাপ্লিকেশন এর মত এই অ্যাপটি বেসিক ভিডিও এডিটিং ফিচারস যেমন - ভিডিও কাট বা ট্রিম করা, কালার অ্যাডজাস্টমেন্ট করা, স্পিড কন্ট্রোল করা কিংবা ট্রানজিশন লাগাতে পারবেন।

সবচেয়ে অস্থির বিষয় হচ্ছে আপনি গ্রীন স্ক্রিন ইউজ করলে ক্রমা কী এর দ্বারা ব্যাকগ্রাউন্ড চেঞ্জ করতে পারবেন! এছাড়া অডিও তেও ফিল্টার অ্যাড করতে পারবেন এবং অ্যানিমেশন কী দ্বারা যেকোনো কিছু কে অ্যানিমেট করতে পারবেন। এছাড়া মাল্টিপল ভিডিও, ইমেজ এবং অডিও লেয়ার অ্যাড করতে পারবেন।

এছাড়া, আপনি ভিডিওতে নানা ধরনের ইফেক্ট লাগাতে পারবেন, টেক্সট এর ফন্ট চেঞ্জ করতে পারবেন। পিকচার ইন পিকচার বা পিয়াইপি অ্যাড করতে পারবেন, স্টিকার অ্যাড করতে পারবেন ইত্যাদি। মার্কেটে থেকে আরো বেশি এলিমেন্ট ডাউনলোড করতে পারবেন। সব মিলিয়ে অ্যান্ড্রয়েড ইউজারদের জন্য এই অ্যাপ সোনায় সোহাগা।

6. Funimate

Funimate

ফানিমেট যদিও অনেক বেশি ফিচারস দিয়ে ভরা ভিডিও এডিটিং অ্যাপ নয়, তবুও অনেক বেশি জনপ্রিয় ইউজারদের মধ্যে। এই অ্যাপটি দাবি করে আপনার ডিভাইস অলরেডি যা আছে টা দিয়ে সিম্পল এবং সন্দর মিউজিক ভিডিও বা নরমাল ভিডিও বানিয়ে দিবে আপনাকে। 

অ্যাপটির মধ্যে ১৫ টার মত ফিল্টার রয়েছে যার দ্বারা আপনি আপনার ভিডিও এর কালার চেঞ্জ করতে পারবেন এবং ভিডিও তৈরি করার প্রক্রিয়া অনেক সহজ এবং সময় বান্ধব। সিরিয়াস ভিডিও এডিটিং এর জন্য এই অ্যাপটি না।

এর মধ্যে অনেক ভিডিও ইফেক্টস রয়েছে। ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুক স্টোরিজ এ ছোট ভিডিও আপলোড করতে চাইলে এটি আদর্শ অ্যাপ। আপনি ফ্রী তে ডাউনলোড করতে পারবেন নিজে ব্যবহার করে দেখার জন্য।

7. Movie Maker Filmmaker

Movie+maker+filmmaker

মুভি মেকার ফিল্মমেকার এর অবস্থান হলো সেরা ভিডিও এডিটিং অ্যাপ্লিকেশন গুলোর মধ্যে। আপনি ভিডিও ট্রিম করতে পারবেন, ক্রপ করতে পারবেন, এবং ভিডিও পুনরায় সাজাতে পারবেন টাইমলাইনে এমন কি ফোকাল পয়েন্টও সেট করতে পারবেন।

অ্যাপটির মধ্যে নানানরকম ভিডিও ফিল্টার অ্যাড করার সুবিধা রয়েছে। এমনকি, আপনি নিজে পছন্দমত ফিল্টার ব্যবহার করতে পারবেন। যদিও, সেই ফিচারটি অনেক বেশি কার্যকর না। আপনি অন্য সব কাজ যেমন - মিউজিক অ্যাড করা বা স্পিড কন্ট্রোল করা, টেক্সট অ্যাড করাসহ যাবতীয় কাজ নিষ্পন্ন করতে পারবেন নির্দ্বিধায়।

অ্যাপটি কিছু বাঘ ভাল্লুক নিয়ে সমস্যায় পড়েছে এর মুখ্য রিডিজাইনের পর থেকে। এরপরও, এটি অনেক বেশি ভালো অন্যান্যদের তুলনায়। এইটা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ইউজ করা যাবে বিজ্ঞাপন সহ।

8. Quik

Quik

কুইক অ্যাপটি গোপ্রো অ্যাকশন ক্যামেরা কোম্পানির একটি অ্যাপ্লিকেশন। এটি নতুন ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার গুলোর একটি। এইটা সাধা সিধা ভিডিও এডিটিং এর জন্য যথেষ্ট। এইটা কাজ করে এইভাবে যে আপনি ৫০ টার মতো ফটো এবং ভিডিও অ্যাড করবেন এবং অ্যাপটি সয়ংক্রিয়ভাবে আপনার জন্য একটি ভিডিও বানিয়ে দেবে।

কুইক এর মধ্যে দুই ২৪ টারও বেশি ভিডিও স্টাইলস রয়েছে এবং আপনি ভিডিও এক্সপোর্ট এর পূর্বে ভিডিও ইচ্ছে মত সাজাতে পারবেন এবং ফিল্টার চেঞ্জ করতে পারবেন। এইটা পাওয়ার ডিরেক্টর কিংবা কাইন মাস্টার এর ন্যায় শক্তিশালী না তবুও কাজ হোয়ে যাবে।

9. Viva Video

Viva+Video

অ্যান্ড্রয়েড জগতে কিংবা আইওএস জগতে সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও এডিটিং অ্যাপগুলোর একটি হচ্ছে ভিভা ভিডিও এডিটর। এটি অনেকটা সাধাসিধা। বলতে গেলে, কাইন মাস্টার এবং কুইক এর মাঝখানে এর অবস্থান। এই অ্যাপটি বিস্ময়করভাবে অনেক ভালো কাজ করে ছোট ভিডিও তৈরি করার কাজে সোশাল মিডিয়ার জন্য।

অ্যাপটি স্টোরিবোর্ড স্টাইল এর এডিটিং প্যানেল ইউজ করে যেখানে আপনি ভিডিও ক্লিপস অ্যাড করেন এবং কাট বা ট্রিম করেন প্রয়োজন অনুযায়ী এবং অতঃপর পরবর্তী এডিটিং সেগমেন্টে যান। এর মধ্যে ২০০ এরও অধিক ফিল্টার রয়েছে এবং বহরক ভিডিও ইফেক্টস রয়েছে পাশাপাশি। এছাড়াও, টেক্সট অ্যাড করাসহ ভিডিও ফাস্ট বা স্লো করার অপশন তো থাকছেই।

ভিভা ভিডিও অ্যাপটি ফ্রিতে ডাউনলোড করে ইউজ করতে পারবেন। কিন্তু ওয়াতেরমারক থাকবে এর সঙ্গে ভিডিও এর টাইম এর সীমাবদ্ধতাও থাকবে। আপনি এই সব সীমাবদ্ধতা সরাতে পারবেন অ্যাপটির প্রফেসনাল ভার্সনটি ক্রয় করে।

10. Power Director

Power+Director

এই লিস্টের সর্বশেষ অ্যাপটি হচ্ছে পাওয়ার ডিরেক্টর। কাইন মাস্টার এর একদম সরাসরি প্রতিযোগী হচ্ছে এই অ্যাপ্লিকেশনটি। এর মধ্যে ব্যাপক ফিচারস ভরে রাখা হয়েছে। এতে আপনি কাইনমাস্টার এর মত নরমাল এডিটিং থেকে শুরু করে সবচেয়ে ভারী এডিটিংও করতে পারবেন।

এতেও কাইন মাস্টার এর মত ক্রোমা কী ফাংশন রয়েছে যার দ্বারা আপনি ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন করতে পারবেন। আপনি ভিডিও রিভার্স এবং স্লো মোশনও করতে পারবেন। অ্যাপটির ইন্টারফেস অনেক সিম্পল এবং যারা ভিডিও এডিটিং অ্যাপস ইউজ করে থাকেন তাদের কাছে এই অ্যাপটি পরিচিত থাকার কথা।

অ্যাপটি সম্প্রতি একটি নতুন আপডেট পেয়েছে যেখানে ইউজার ইন্টরফেস নতুনভাবে সাজানো হয়ছে। আরও যারা পিসি তে সাইবারলিংক পাওয়ার ডিরেক্টর ইউজ করে থাকেন তারা এই অ্যাপটির মধ্যে ইমপোর্ট করা ভিডিও এর কাজ শেষ করতে পারবেন পিসিতে নিয়ে।  

মতামত

সর্বশেষে বলতে চাই যে আপনাদের যদি ভালো লেগে থাকে এই আর্টিকেলটা তাহলে আমাকে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন এবং আমাদের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস এর আরেক আর্টিকেল দেখে নিতে পারেন।

অতএব, আমি যদি এমন কোনো অ্যাপ বাদ দিয়ে যেটা এই লিস্টে থাকার কথা আমাকে কমেন্টস এ জানান। ধন্যবাদ। সবাই সুস্থ থাকুন। বাসায় থাকুন।

অপেক্ষাকৃত নতুন পুরনো