-->

অ্যান্ড্রয়েড ১১ আসছে নতুন সব ফিচারস নিয়ে

Android+11
Image credit: AndroidPIT 

নতুন বছরের সাথে গুগল নতুন অ্যান্ড্রয়েড আপডেট নিয়ে আসে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের জন্য। এবারও গুগল অনেকজোর দিয়ে কাজ করছে তাদের অ্যান্ড্রয়েড ১১ এর জন্য। অ্যান্ড্রয়েড ১১, গুগলের লেটেস্ট মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম আসবে এবছরের শেষের দিকে, আনবে অনেক ধরনের ফিচারস সকল অ্যান্ড্রয়েড ফোন এবং ট্যাবলেটের জন্য।

তাহলে কিসব ফিচারস থাকবে ? এখনো যদিও সম্পূর্ণভাবে বলা যাবে না কারণ প্রতিনিয়ত নতুন সব ফিচারস যোগ হচ্ছে। আর এখন পর্যন্ত আমরা ৩ টা ডেভেলপার প্রিভিউ দেখেছি অ্যান্ড্রয়েড ১১ এর, যেটা শুরু হয় ফেব্রুয়ারিতে এবং সর্বশেষ সংযুক্তি হয় এপ্রিলের শেষের দিকে। তাই গুগল সম্ভবত যেসব উন্নয়ন এর কথা বলছে সেটা মূলত অ্যাপ নির্মাতাদের প্রতি লক্ষ্য করে বানানো।


কিন্তু এটা এখন পরিবর্তন হওয়ার পালা কারণ গুগল আনুষ্ঠানিক ভাবে একটা নির্দিষ্ট দিন নির্ধারণ করেছে যেখানে অ্যান্ড্রয়েড ১১ আরো বেশি মানুষ ডাউনলোড করতে দেখতে পারবে। অর্থাৎ, অ্যান্ড্রয়েড ১১ এর পাবলিক বেটা। সুতরাং, আমরা শীঘ্রই অ্যান্ড্রয়েড ১১ নিয়ে গুগলের পরিকল্পনা জানতে পারবো আপনার অ্যান্ড্রয়েড এর জন্য।alert-success


আরো পড়ুন:

Android+11
(Image Credit: Google/Android)

অ্যান্ড্রয়েড ১১ রিলিজ ডেট

ফেব্রুয়ারি থেকেই গুগল নিয়মিত আপডেট করে চলেছে অ্যান্ড্রয়েড ১১ এর ডেভেলপার প্রিভিউ, যেখানে ২য় ডেভেলপার প্রিভিউ আসে মার্চের ১৮ তারিখে এবং সর্বশেষ আপডেট আসে এপ্রিলের ২৩ তারিখে। অর্থাৎ, একটা বড়ো আপডেট আসতে চলেছে যেকোনো সময় যদিও করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বিশ্ব বিধ্বস্ত। 

করোনা ভাইরাসের বৈশ্বিক সংক্রমনের কারণে গুগলের অ্যান্ড্রয়েড ১১ এর পরিকল্পনার উপর একটা প্রভাব পড়ে। সাধারণত গুগল তাদের Google I/O সম্মেলনে তাদের লেটেস্ট অ্যান্ড্রয়েডে ভার্সনের ফিচারস নিয়ে বকবক করে এবং একটা বিস্তৃত প্রিভিউ লঞ্চ করে সবার জন্য।

কিন্তু এবারের Google I/O সম্মেলন বাতিল করে দেওয়া হয় কারণ সব দেশেই করোনার সংক্রমন রোধ করার জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হয়। তবে গুগল অনলাইনে সম্মেলনটি করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও সেটিও বাতিল হয়ে যায়।

বরং গুগল এবার অনলাইনে উন্মেষ করবে অ্যান্ড্রয়েড ১১ জুন মাসের ৩ তারিখে। সেই সময়ে আমরা একটা বেটা রিলিজও দেখতে পারবো যেটা সবাই প্রিভিউ করে দেখতে পারবে। গুগলের শিডিউল অনুসারে এবছরের থার্ড কোয়ার্টারে রিলিজ অ্যান্ড্রয়েড ১১। 

এই তথ্যটা মানানসই এবং বিশ্বাস যোগ্য কারণ গতবছর সেপ্টেম্বরের ৩ তারিখে বের হয় অ্যান্ড্রয়েড ১০, ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট বের হয় অ্যান্ড্রয়েড পাই, ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট অভিষেক হয় অ্যান্ড্রয়েড অরিও। 

অনুমান করি, এবারও আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ ভাবে উন্মোচন হবে অ্যান্ড্রয়েড ১১।

অ্যান্ড্রয়েড ১১ এর নাম কি হবে ?

যারা দীর্ঘদিন যাবৎ অ্যান্ড্রয়েড ওএস ব্যাবহার করছেন তারা জানেন গতবার ব্যাতিত প্রত্যেক বার অ্যান্ড্রয়েড এর নতুন ভার্সন এর সাথে গুগল নতুন একটা নাম এনেছে। যেই নামটা ছিল প্রত্যেকবারই মিষ্টি জাতীয় খাবারের।


Android+11+News
Image Credit: Somag News

অরিও এবং পাই এর পূর্বের ভার্সন গুলোর নাম ছিল যথাক্রমে– নুগাট, মার্শমালো, ললিপপ, কিটক্যাট ইত্যাদি। তবে এই লেগাসিটির সীমা অন্ত হয় গত বছর অ্যান্ড্রয়েড ১১ এর আনুষ্ঠানিক নামকরণের মাধ্যমে।

এর মূল করন হতে পারে গতবছর গুগল 'Q' দিয়ে কোনো খাবারের নাম পায় নি। যদিও গুগল এত বড়ো সার্চ ইঞ্জিন এবং এর বিস্তৃতি সব জাগায়। অথবা গুগল তাদের ওএস এর জন্য নতুন পদ্ধতির নাম এর কথা ভাবছিল।

যাই কারণ হক, এবারও গুগল যখন ৩ জুনে অ্যান্ড্রয়েড ১১ উন্মেষ করবে তখন এর নাম অ্যান্ড্রয়েড ১১ ই থাকবে। কারণ গুগল ৩ জুনের বেটা লঞ্চ ইভেন্টে জন্য অ্যান্ড্রয়েড ১১ নামটি ব্যাবহার করেছে।

অ্যান্ড্রয়েড ১১ এর ফিচারস

জুন মাসের ৩ তারিখে যখন গুগল অনলাইনে ইভেন্টে করবে তখন অ্যান্ড্রয়েড ১১ এর ফিচারস নিয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। যেখানে আমরা ডেভেলপার প্রিভিউ এর তুলনায় আরো বেশি ফিচারস দেখতে পারবো। পূর্ববর্তী রিলিজ গুলোর ভিত্তিতে সম্পূর্ণ রিলিজের মধ্যে যেসব ফিচারস থাকবে সেগুলোর তথ্য নিম্নে তুলে ধরা হলো: alert-info

মেসেজিং ইমপ্রুভমেন্ট: গুগল কনভারসেশন বিষয়ে অনেক পরিবর্তন আনবে বলে জানা গেছে। এবং চ্যাট ইমপ্রুভমেন্ট হবে অ্যান্ড্রয়েড ১১ এর একটি বড়ো দিক। প্রথমত, এই নতুন ওএস এর মধ্যে থাকবে চ্যাট বাবলস। এর দ্বারা আপনি চলমান কনভারসেশন গুলো একটা বাবলে রাখতে পারবেন যেটা আপনি যেকোনো জায়গা থেকে খুলতে পারবেন। 

অ্যান্ড্রয়েড ১১ এর প্রিভিউ তে একটি বাবল এপিআই রয়েছে যেটা ইঙ্গিত করছে থার্ড-পার্টি অ্যাপগুলোও এটা সাপোর্ট করবে। এছাড়া আপনি নোটিফিকেশন শেড থেকে আপনার কনভারসেশন গুলো অ্যাকসেস করতে পারবেন, যেখানে কনভারসেশন এর জন্য একটি আলাদা সেকশন থাকবে। 

এছাড়া আরেকটি সুবিধা থাকবে যেখানে যেসব অ্যাপস কপি পেস্ট সাপোর্ট করে সুগুলো ইউজাররাদের সাহায্য করবে নোটিফিকেশন শেড থেকেই ইমেজ ইনসার্ট করতে যখন তারা মেসেজের রিপ্লাই দেবে।

One-time-only-permission-of-android-11
Image Credit: Google

ওয়ান-টাইম অ্যাপ পারমিশন: অ্যান্ড্রয়েড ১১ এ অ্যাপ পারমিশনের উপর অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এবার একটা নতুন ফিচার আসবে যার নাম হবে 'অনলি দিস টাইম' যেটা অ্যাপগুলোকে ফোনের লোকেশন, ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ইত্যাদির উপর সাময়িক নিয়ন্ত্রণ দিবে। 

এর মানে যখন আপনি অ্যাপটি ক্লোজ করবেন তখন সব পারমিশন বন্ধ হয়ে যাবে। এই রকম ডাটা সুরক্ষার নিশ্চয়তা আইওএস ইউজাররা আগে থেকেই পাচ্ছিলেন অ্যান্ড্রয়েড এও আসছে বলে ভালো লাগছে। 

এছাড়া অ্যান্ড্রয়েড ১১ খুব সম্ভত অ্যান্ড্রয়েড ১০ এর একটা ফিচার বিস্তৃত ভাবে ব্যাবহারের জন্য নিয়ে আসবে যেটা ইউজাররা ডাটা অ্যাপগুলো কে ততক্ষনই দিবে যতক্ষণ সেই অ্যাপটা ব্যাবহার করা হবে। এই একই ফিচারটির পরিধি বাড়বে যেখানে ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোনের পারমিশন এর জন্যও ব্যাবহার করা যাবে।

নতুন স্ক্রীন টাইপ এর জন্য সাপোর্ট: সাম্প্রতিক সময়ে এমন সব ফোন বের হচ্ছে যেখানে ডিসপ্লে গুলো ফোলডেবল কিংবা ফ্রন্ট ক্যামেরার জন্য একটা কাট-আউট ব্যাবহার করা রয়েছে। এই সব ডিসপ্লে টেক এর জন্য অ্যান্ড্রয়েড ১১ এমন সব টুলস আনছে সেগুলোর দ্বারা অ্যাপ মেকাররা সেই সমস্ত ডিসপ্লের জন্য নিজদের অ্যাপ আরো ভালোভাবে অপটিমাইজ করতে পারবেন।

তাছাড়া অ্যান্ড্রয়েড ১১ ফোলডেবল ডিসপ্লে সম্বলিত ফোনগুলোর হিঞ্জ এর কোণটা পরিমাপ করার সক্ষমতা পাবে, যাতে অ্যাপ এর কার্যক্রম সেই অনুযায়ী পরিবর্তন হতে পারে। স্যামসাং গ্যালাক্সি জি ফ্লিপ ফোনটিতে ফ্লেক্স মোডে এর স্ক্রিনের উপরিভাগ অ্যাপ এর ভিউ দেয় এবং নিচের অংশটুকুতে অ্যাপ কন্ট্রোল করার সুবিধা দেয়। এই ফিচার টাই আরো অনেক ফোলডেবল ফোনে আসতে চলেছে।

স্ক্রিনের দ্রুত রিফ্রেশ রেট: অ্যান্ড্রয়েড ১১ এ অ্যাপস এবং গেমসগুলো একটা নির্দিষ্ট রিফ্রেশ রেট নির্ধারণ করার সুযোগ পাবে। অর্থাৎ গেমস গুলো যেসব ফোন বেশি রিফ্রেশ রেট সম্বলিত ডিসপ্লে বহন করে তার সুযোগ নিতে পারবে। এবং ফলস্বরূপ গেমগুলো আরো ভালোভাবে চলতে পারবে।

স্ট্রিমিং সার্ভিসে উন্নতি: আজকাল স্মার্টফোনে স্ট্রিমিং বেড়েই চলেছে। এমনকি গুগলের নিজের গুগল স্টাডিয়া গেমিং সার্ভিসও স্ট্রিম করা লাগে। অ্যান্ড্রয়েড ১১ এ স্ট্রিম এর সর্বপ্রথম ফ্রেম অনেক দ্রুত ওপেন হবে ফলে স্ট্রিমিং সার্ভিসে আরো উন্নতি লক্ষ্য করা যাবে।

কলস্ক্রিনিং এর উন্নতি: গুগল প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা  এ পি আই সংযোজন করছে যেগুলো কল স্ক্রিনিং অ্যাপাগুলোকে রোবট কলিং আরো ভালো ভাবে নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে। কল স্ক্রিনিং ফিচার টি অ্যান্ড্রয়েড পাই এর সাথে বের হয়।

বাধাহীন প্রয়োজনীয় আপডেট: অ্যান্ড্রয়েড নুগাট থেকে গুগল তাদের মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমে একটা ফিচার অন্তর্ভুক্ত করেছে যেখানে ডিভাইসে সফটওয়্যার আপডেট আসার সময় কমবে। যদিও কিছু স্মার্টফোনে নির্মাতা এই ফিচারটি আগে থেকেই সাপোর্ট করছে কিন্তু কিছু এখনো বাদ আছে - হ্যালো স্যামসাং। কিন্তু অ্যান্ড্রয়েড ১১ এ স্যামসাং কেও এইটা এডপ্ট করতে হবে কারণ এটা তারা বাধ্য।

৫জি সাপোর্ট: ইউরোপ এবং আমেরিকায় যেহুতু ৫জি এর ব্যাপকতা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সেই সাথে ৫ জি ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক গুলো সক্রিয় তাই গুগল সুনিশ্চিত করতে চায় এর লেটেস্ট মোবাইল ওএস যেন ৫জি এর দ্রুত গতির পূর্ণ সুবিধা নিতে পারে। 

একটা ৫ জি এ পি আই অ্যান্ড্রয়েড ১১ ওএস সংবলিত ফোনগুলোতে ৫ জি কানেকশন থাকা কালীন হাই রেজুলেশনে ইমেজ এবং ভিডিও দেখতে সাহায্য করবে। পক্ষান্তরে আরেকটি এ পি আই অ্যাপ গুলোর ব্যান্ডউইথ আপস্ট্রিম এবং ডাউনস্ট্রিম করার কাজটি সহজ করবে।

অ্যান্ড্রয়েড ১১ এর দ্বিতীয় ডেভেলপার প্রিভিউ তে গুগল অ্যাপগুলো কে যেই ৫ জি নেটওয়ার্ক এর সাথে সংযোগ রয়েছে সেটার ধরন সম্পর্কে বুঝতে সক্ষমতা প্রদান করে, যাতে ফোনের পারফর্মনেস সেই অনুযায়ী মানিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

ডার্ক মোড ইমপ্রুভমেন্ট: কিছু স্মার্টফোন এমন সুবিধা দেয় যেখানে আপনি একটা নাইট শিল্ড এর শিডিউল বানাতে পারেন, যেখানে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফোনের ব্লু লাইট রশ্মি এর প্রতিফলন কমে যায়। 

অ্যান্ড্রয়েড ১১ এও এরকমই একটা ফাংশন থাকবে ডার্ক মোডের সহিত, যেখানে আপনি ডার্ক মোড চালু এর বন্ধ হওয়ার শিডিউল করতে পারবেন। এর মানে  আরো বেশি ফোনে ডার্ক মোড চলে আসবে।

ওয়্যারলেস চার্জিং ইমপ্রুভমেন্ট: আপনি যদি আপনার ফোন চার্জ করার জন্য একটা ওয়্যারলেস চার্জার ব্যাবহার করে থাকেন তাহলে অ্যান্ড্রয়েড ১১ আপনাকে সাহায্য করবে। যদি আপনার ওয়্যারলেস প্যাড এ ফোন চার্জ দিতে সমস্যা হয় তাহলে অ্যান্ড্রয়েড ১১ আপনকে বলে দিবে আপনার ফোনটি ভুলভাবে প্যাড রাখা হয়েছে। তাই আপনি ফোনটি সঠিকভাবে প্যাডে রেখে ১০০% চার্জ করতে পারবেন।

স্কোপড স্টোরেজ: ডেভেলপার প্রিভিউর পূর্বে গুগল 'স্কোপড স্টোরেজ নামক একটি ফিচার আনবে নিশ্চিত করে যেটার সূচনালগ্ন অ্যান্ড্রয়েড ১০ এ হলেও ডেভেলপারদের কথায় সেটা বাদ পড়ে। স্কপড স্টোরেজের এমন ফিচার যেখানে আপনার অ্যাপগুলো নতুন ভাবে তথ্য রিড করতে পারবে– এক কথায় এটা মেমোরি স্পীড বাড়াবে, সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং যেই সেই অ্যাপকে পারমিশন নেওয়া থেকে বিরত রাখবে।

রিসেন্ট মেনুতে পরিবর্তন: রিসেন্ট স্ক্রিন এর মধ্যেও কিছু পরিবর্তন আসবে– একটা আনডু বাটন যেটা ভুলে ক্লোজ করা অ্যাপ আবার ফিরিয়ে আনবে, একটা স্ক্রিনশট বাটন যেটা অ্যাপ না খুলেই স্ক্রিনশট তুলার সুবিধা দেবে।

অন্যান্য পরিবর্তনসমূহ: কিছু বাটন এর সাইজ এর পরিবর্তন হবে যাতে আপনি সেগুলো মিস না করেন। এবং ভলিউম মেনু এর নাম পরিবর্তন হয়ে হবে সাউন্ড কোনো একটা করণের জন্য।

তাছাড়া আপনার ফোনের হটস্পট একটা ইথারনেট ক্যাবল দ্বারা শেয়ার করতে পারবেন। ব্লুটুথ কিংবা ওয়াই ফাই নয় প্রয়োজন ভালো ইথারনেট কেবল।

নোটিফিকেশন শেড থেকে ফালতু সব এলার্ট যেগুলো আগে সরানো যেত না যেমন: ব্লুটুথ এলার্ট, চার্জিং রিমাইন্ডার সরাতে পারবেন। এটা অনেকের ফোনের নোটিফিকেশন এর যন্ত্রণা দূর করবে।

এছাড়া অ্যান্ড্রয়েড ১১ এ যখন আপনি ব্লুটুথ হেডফোন কানেক্ট করবেন এবং পরবর্তীতে এয়ারপ্লেন মোড অন করবেন তখন আর ব্লুটুথ সব কিছু থেকে ডিসকানেক্ট হবে না। এটা অনেককে ফালতু কষ্ট থেকে বাঁচাবে।

অ্যান্ড্রয়েড ১১ ডাউনলোড করবেন ?

যদি আপনি একজন ডেভেলপার না হন তাহলে অ্যান্ড্রয়েড ১১ এর বেটা ইন্সটল করে আপনার কোনো লাভ নেই। আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছি যে এবারের অ্যান্ড্রয়েড ১১ এর ডেভেলপার প্রিভিউ মূলত অ্যাপ ডেভেলপারদের জন্য উদ্দেশ্য করে বানানো যাতে তারা শেষ বিল্ড এ অ্যাপগুলো আরো বেশি অপটিমাইজ করতে পারেন। alert-success

সুতরাং, এই কথাগুলো যদি আপনার কাজের না হয় তাহলে এখন অ্যান্ড্রয়েড ১১ ডাউনলোড করবেন না। করলেও একটা আলাদা ডিভাইসে টেস্টের জন্য করতে পারেন। তাই জুনের ৩ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। কিছুদিনের মধ্যেই অ্যান্ড্রয়েডে ১১ এর  একটা ভার্সন পাবেন যেটা ইউজার ফ্রেন্ডলি হবে ( যদিও এর পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ হবে না )

অ্যান্ড্রয়েড ১১ বেটা প্রোগ্রামে কিভাবে যোগ দিবেন ?

অ্যান্ড্রয়েড ১১ এর লেটেস্ট ডেভেলপার প্রিভিউ চালানোর জন্য আপনার কাছে থাকতে হবে যেটা পিক্সেল ২ বার এর পরের পিক্সেল ডিভাইসের ফোন গুলো। পূর্ববর্তী বছর গুলোতে গুগল পিক্সেল বাদে অন্যান্য ফোনেও অ্যান্ড্রয়েড বেটা ব্যাবহার করার সুযোগ দিয়েছিল কিন্তু এবার একটা স্ট্যাবল বিল্ড না আসা পর্যন্ত এটা হবে না। 

সেখান থেকে আপনাকে আপনার পিক্সেল এর জন্য সিস্টেম ইমেজ ডাউনলোড এবং ফ্ল্যাশ করতে হবে।

প্রক্রিয়াটি নরমাল ডাউনলোডিং এবং আপডেট এর থেকে কিছুটা জটিল। যেই ডিভাইসে এ ইন্সটল করতে চান সেটাতে আপনাকে ইউএসবি ডেবাগিং এবং ডেভেলপার সেটিংস অন করে নিতে হবে। ডেভেলপাররা এই কাজটা স্বাচ্ছন্দ্যে করতে পারবেন কিন্তু নরমাল ইউজাররা না।

মতামত

সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। আশা করি আপনাদের অ্যান্ড্রয়েড ১১ এর রিলিজ ডেট, ফিচারস, লিকস নিয়ে আর্টিকেলটা আপনাদের ভালো লেগেছে। আপনার ফোনে অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন কত চলছে কমেটনটে জানান এবং আপনি কি অ্যান্ড্রয়েড ১১ এর জন্য উদগ্রীব সেটাও জানান। আসসালমুয়ালাইকুম।

Post a Comment

আমরা স্প্যাম ঘৃণা করি!

অপেক্ষাকৃত নতুন পুরনো